সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল আলোকধারা বহন করে চলেছে মালদহের চাঁচল মহকুমার রতুয়া – ২ ব্লকের প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন লস্করপুরের সার্বজনীন কালীপুজো | ৮১ নং জাতীয় সড়কের পাশে এক প্রাচীন অচিন বৃক্ষের তলায় ওই পুজোকে কেন্দ্র করে বসেছে মেলা |সকল সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছে মিলন ক্ষেত্রে | আগামীকাল মেলা প্রাঙ্গণের অদূরে মহানন্দায় মায়ের মৃণ্ময়ী প্রতিমার বিসর্জন | মেলায় ফুচকা থেকে শুরু করে মিষ্টান্নসহ বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান , খেলনা , চুড়ি ,প্রসাধন সামগ্রী , পুরুষ ও মহিলাদের জন্য রকমারি ব্যাগ ও কাঠের আসবাবপত্রের পসরা নিয়ে হাজির হয়েছেন জেলা ও জেলার বাইরে থেকে আসা ব্যবসায়ীরা | উত্তর দিনাজপুর জেলা থেকে এসেছেন এক খেলনা ব্যবসায়ী বঙ্কিম সূত্রধর | মেলা প্রাঙ্গণে তিনি শিশুদের জন্য কাঠের তৈরি খেলনার দোকান দিয়েছেন | তিনি জানালেন , ” প্রতি বছরই এই মেলায় আসি | এবারও এসেছি | বিক্রিবাট্টা ভালোই হচ্ছে |” এক চুড়ি ব্যবসায়ী লোকমান মিঞা মেলায় এসেছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থেকে | তিনি জানালেন , ” বাবাও এই মেলায় আসতেন | আমিও গত কয়েক বছর ধরে মেলায় আসছি।             বেশ জমজমাট মেলা |বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে | ” মেলায় পরিবার নিয়ে এসেছেন রাম দাস | তাঁর বাড়ি রতুয়া -১ ব্লকের সামসিতে | তিনি জানালেন , ” মাতৃদর্শনে পরিবারসহ এসেছি | বাড়ির সবাইকে নিয়ে মেলায়ও ঘুরে দেখছি | বেশ জমজমাট মেলা | ছেলের জন্য কাঠের গাড়ি কেনা হল | মেয়ের জন্য কিনলাম বেলুন | আর গিন্নি রান্না ও ঠাকুরের সামগ্রী কিনতে ব্যস্ত রয়েছেন | ” গাজোল ব্লকের আলাল থেকে বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় এসেছেন বিশাল সাহা | তিনি বললেন , ” প্রতি বছরই বন্ধুদের সঙ্গে এই মেলায় আসি |” পুজো কমিটির সূত্র থেকে জানা যায় , শ্রীপুরের জমিদার মহসিন আলি এই কালীপুজো শুরু করেছিলেন | পরবর্তীকালে এই পুজো সার্বজনীন রূপ নেয় | এখানে মৃণ্ময়ী মাতৃ প্রতিমার উচ্চতা সাড়ে সাত হাত | পুজো কমিটির সম্পাদক অলোক সরকার বললেন , ” সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে উঠেছে মিলন ক্ষেত্র | শ্রীপুরের জমিদার মহসিন আলি এই পুজো শুরু করেন | পরবর্তীকালে এই সার্বজনীন রূপ নেয় | বর্তমানে আমরা সকলে মিলে পুজোর আয়োজন করে থাকি | মেলাও বসে |” ( ছবি ও তথ্য : দেবাশিস ঘোষ , চাঁচল )