মালদা ১১ ফেব্রুয়ারি । বিয়ের পর থেকে পরপর তিনবার কন্যা সন্তান হয়েছিল গৃহবধূর । দাবি মতো ওই গৃহবধূ শ্বশুরবাড়িকে দিতে পারেননি কোন পুত্র সন্তানের জন্ম। আর সেই কারণেই বাড়ির উঠোনে চিতা সাজিয়ে গৃহবধূর হাত-পা বেঁধে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে হবিবপুর থানার আদিবাসী অধ্যুষিত ধুমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তিলাসন গ্রামে। রাতেই স্থানীয় গ্রামবাসীরা সংকটজনক অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করান।
মেডিকেল কলেজের ডেপুটি সুপার ডাঃ জ্যোতিষ চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, ওই মহিলা রোগীর অবস্থা সঙ্কটজনক। তার শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে । তার চিকিৎসা চলছিল দুঃখীত তাকে বাচিয়ে ফেরাতে পারলাম না এত চেষ্টা করেও।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত গৃহবধূর নাম মনিকা ভুঁইমালি (৩৫)। তার বাবার বাড়ি কালিয়াচক থানার বাহাদুরপুর গ্রামে। ১২ বছর আগে হবিবপুরের তিলাসন গ্রামের বাসিন্দা পেশায় ট্যাক্সিচালক টগর ভুঁইমালির সঙ্গে বিয়ে হয় মনিকার । বিয়ের পর প্রথম কন্যা সন্তানের জন্ম দেন । এর চার বছরের মধ্যে আরো একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন মনিকা। অবশেষে তিন নম্বর সন্তানটিও হয় কন্যা । এই তিন কন্যা সন্তানের নাম বিউটি (৭) শিউলি (৬) এবং শিল্পী (২) ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, পুত্র সন্তান না হওয়ার কারণেই ওই মহিলাকে স্বামীসহ তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা মারধর করতো এবং তার উপর চরম নির্যাতন চালাতো। বুধবার রাতে পাড়া-প্রতিবেশীরা ওই মহিলার আর্তচিৎকার পেয়ে তার শ্বশুর বাড়িতে ছুটে যান । সেখানেই দেখেন খুব, বাঁশ জমা করা আছে বাড়ির উঠোনে । আর তার মধ্যেই দাও দাও করে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জ্বলছে মনিকা । এরপরই স্থানীয়রা আগুন নেভানোর. ছবি ও তথ্য – জয়দীপ দাস