নন্দীগ্রাম, (পূর্ব মেদিনীপুর)ঃঃ ঠিক ১২ বছর আগের ১৪ মার্চ।জমিরক্ষার আন্দোলনকে ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।পুলিশের গুলিতে ১৪ জনের নৃশংস মৃত্যু।যা কার্যত নড়িয়ে দিয়েছিল ৩৪ বছরের বাম দুর্গের ভীতকে।জমি আন্দোলনের ধাত্রীভূমি সেই নন্দীগ্রামে পুলিশি অত্যাচারের ১২ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানেই কার্যত ভোট প্রচারের বাজনা বাজাল তৃণমূল।বৃহস্পতিবার বিকেলে নন্দীগ্রাম সীতানন্দ কলেজ মাঠে ১৪ মার্চ শহিদ স্মরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত জনসভাতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম বিধানসভা থেকে ১ লক্ষ ভোট লিড দেওয়ার কথা ঘোষণা করে দিলেন নন্দীগ্রাম আন্দোলনের নেতা রাজ্যের পরিবেশ ও পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী ভাই দিব্যেন্দু অধিকারীকে পাশে বসিয়ে মন্ত্রী এদিন বলেন,”আজ নন্দীগ্রামে সভা করলাম।আগামী ১২মে ভোট।তার আগে ১০মে নন্দীগ্রাম ও রেয়াপাড়ার দুটি রাস্তায় আমি হাঁটব।বাকি দিনের দায়িত্ব আপনাদের। নন্দীগ্রাম ১লক্ষ ভোটের লিড দেবে।আমি নিশ্চিন্তে অন্য জায়গায় কাজ করব।আমি মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুরে বিজেপি ও তার বন্ধু অধীর চৌধুরিদের হারানোর দায়িত্ব নিয়েছি।পঞ্চায়েত ভোটেও হারিয়েছি।এবারও হারাব।ওই ৩ জেলার আসনগুলিতে তৃণমূল জিতবে।”ভিড়ে ঠাসা জনসভায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে রক্তস্নাত নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মন্ত্রী।দাবি করেন,জালিয়ানওয়ালা বাগের ঘটনার মতোই ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে নন্দীগ্রামের নারকীয় অত্যাচারের কাহিনী।বলেন,”আমরা বুদ্ধবাবু ও সিপিএমের হার্মাদদের কথা ভুলে যেতে পারিনা। সেদিন দিল্লিতে কংগ্রেস ও সিপিএমের সরকার ছিল। সেই সময় সোনিয়াজি, মনমোহন সিং’রা ওড়িশার মালকো আন্দোলনে, রাজস্থানের গুর্জর আন্দোলনে, অন্ধ্রপ্রদেশের আন্দোলনে গুলি চলায় দৌড়ে গেলেও, নন্দীগ্রামে আসেননি।নন্দীগ্রামে কারোর টিকি পাইনি, করোর সাহাজ্য পাইনি।কেউ নন্দীগ্রাম নিয়ে ব্যবস্থা নেয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নন্দীগ্রামে সিবিআই তদন্ত হলেও তারা রাধারাণি আড়ি কল্পনা মুনিয়ান,নর্মদা সিটের নামে চার্যশিট দিয়েছে। কিন্তু একটাও চটি জুতো ও খাঁকি পোশাক পরা হার্মাদের নামে চার্জশিট দেয়নি।আমাদের লোকেদের লাইন দিয়ে জামিন নিতে হয়েছে। মার খেয়েছে আমাদের লোক। ৩০০ মায়ের ইজ্জত গিয়েছে, মন্দির‑মসজিদ গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছে, ইদের আনন্দ হয়নি, দুর্গাপুজোর কেউ মেতে উঠতে পারেনি, দীপাবলীর আলো বাড়িতে বাড়িতে জ্বলেনি। শহিদের রক্তে ভেসে যাওয়া নন্দীগ্রামে কেবল স্বজন হারানোর কান্না ছিল।সেদিন আমি সেবক হিসেবে দৌড়ে এসেছিলাম। আজ সেই নন্দীগ্রামে রাজ্য সরকার, হলদিয়া উন্নয়ন সংস্থা, জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে নানাবিধ উন্নয়নের কাজ হয়েছে। শহিদের রক্ত ব্যার্থ হয়নি। ৮০০কোটি টাকার জল প্রকল্পের শিলান্যাস হয়েছে।তাই কোনওভাবেই যাতে বিভাজন না আসে তা সকলকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের লড়াই করতে হবে।আমি নন্দীগ্রামে বহুদলিয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। ছবি ও তথ্য খোকন মিশ্র ও প্রসেনজিৎ রায়