মোবাইল না কিনে দেওয়ায় বকাবকি যেরে অভিমানে আত্মঘাতী ছাত্রী।

রাস্তাঘাটে, স্কুলে, বা টিউশনিতে বন্ধুদের হাতে মোবাইল। যেকোনো ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট। বন্ধুদের দেখে আবদার মায়ের কাছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া থানার পশ্চিম অর্জুনদা গ্রামের বাসিন্দা সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী১২ বছরের মৌমিতা মূর্মু।মা কাছে ফোন কেনার আবদার, বকাবকি করায় চরম পথ বেছে নিলেন অভিমানে আত্মঘাতী ছাত্রী।

১১ ফেব্রুয়ারি: নতুন ফোন কিনে দেওয়ার আবদার করেছিল মেয়ে। এত অল্প বয়সে ফোন কিনে দিলে পড়াশোনার ক্ষতি হতে পারে সেই ভেবেই বকাবকি করেছিলেন মা। ঘুণাক্ষরেও টের পায় না যে মেয়ে এমন কাজ করবে। ফোন না পেয়ে অভিমানে কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হলো সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। পুলিশ জানিয়েছে মৃতের নাম মৌমিতা মুর্মু (১২)। সে স্থানীয় রাতুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম অর্জুনদা গ্রামের বাসিন্দা মুনু মুর্মু ও বীরেন মুর্মুর বড় মেয়ে মৌমিতা শনিবার সন্ধ্যেবেলায় মায়ের কাছে ফোন কেনার আবদার করে। এত অল্প বয়সে ফোন হাতে পেলে পড়াশুনার ক্ষতি হতে পারে। সেই সঙ্গে মৌমিতার বাবা বীরেন মুর্মু পেশায় চাষ পাস করেন। মেয়ের আবদার মেটাতে গেলে অনেক কষ্টের সংসারে বোঝা আরো বাড়বে বৈকি। তাই সবদিক বিবেচনা করে মেয়েকেই বকাবকি করেন মা মনু দেবী। আর তাতেই অন্ধকার নেমে এলো মুর্মু পরিবারে।অভিমানে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে মৌমিতা। শনিবার রাতে পরিবারের সবার সাথে খাওয়া দাওয়ার পর বোনের সাথে ঘুমোতে যায় মৌমিতা। রাত তিনটে নাগাদ বাড়িতে থাকা চাষের কাজে ব্যবহৃত কীটনাশক খেয়ে নেয় সে। তারপরই যন্ত্রণায় ছটফট করতে শুরু করে মৌমিতা। চিৎকার শুনে বাবা-মা ঘুম থেকে উঠে তড়িঘড়ি তাকে স্থানীয় পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। চিকিৎসারত অবস্থায় রবিবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়। মৌমিতার জেঠু সনাতন মূর্মু বলেন, ভাইঝি মোবাইল কিনতে চেয়েছিল। তাই তার মা বকাবকি করেছিল। ফোন কিনে না দেওয়ার কারণেই কীটনাশক খেয়ে নেয়। বাচ্চা মেয়ে পড়াশোনার ক্ষতি হবে বলেই ফোন দেওয়া হয়নি। রাতে হাসপাতালে আনা হয় বিকেলে মারা যায়। খুব খারাপ লাগছে এভাবে মারা যাবে ভাবতে পারছি না। প্রতিবেশী রূপচাঁদা হাঁসদা বলেন, সামান্য ফোন কেনার আবদার নামেটানোয় আত্মঘাতী হওয়ায় আমরা সবাই হতবাক। কিছু করার নেই যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। এরকমটা করবে আমরা ভাবতেই পারছিনা।

পাঁশকুড়া থানার ওসি অজিত কুমার ঝাঁ জানান, মৃতদেহ পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে তমলুক জেলা হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য আজ পাঠানো পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

ক্রমেই বাড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ার উপর ঝোঁক। বকাবকি করলে বা মোবাইল যদি না দেয় চরম পথ বেছে নিতে পিছুপা হচ্ছে না এখনকার ছাত্র-ছাত্রীরা। এতেই মৃত্যুবরণ করছে এরা। কবে সচেতন হবে এরা। মৃত্যুই কি শেষ পথ…..?