পরপর দুই কন্যা সন্তান জন্ম হওয়ায় এই পরিনতি এমনটাই দাবী আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের। কন্যা সন্তান জন্ম হওয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদ ছলছিল আট নয় বছর ধরে। আর সেই কারনেই একটি রাতে ছেলের পরিবারের সবাইকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা জন্মদাতা বাবা ইউসুফ সেখ। ঘটনার পর বর্তমানে পুলিশ হেপাজতে আছে ইউসুফ ও মৃতের বড় দাদা একরাম সেখ। প্রতিবেশি সেখ দারা বলেন, যে বাবা একদিন তিন কিমি পথ হেঁটে খানো মোড়ে ইকবালকে ডাক্তার দেখাতে যেত। যে বাবা কোলে পিঠে করে বড় করে মানুষ করেছে তাকে। যে বাবা নিজে তিল তিল করে সম্পতি জমিয়েছে তার ভবিষ্যৎ গড়ে দেওয়ার জন্য। সে বাবা আপন শালার মেয়ের জন্য বিয়ে দিয়েছিল ইকবালের। বিয়ের পর দুটি কন্যা সন্তান জন্ম হওয়ার জন্য ইকবালের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় ইউসুফ। তার মেয়েদের দেখতে পারতো না। পায়খানা বাথরুম ব্যবহার করতে বারন করতো। এবার সম্পত্তির দাবী করায় নৃশংসভাবে ছিঁনিয়ে নিল তার তরতাজা প্রান। আর একদিকে হাসপাতালে আর্তনাদ করে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে স্ত্রী তুহিনা বেগম ও দুই মেয়ে সুহানা খাতুন ও বিলকিস খাতুন। বর্তমানে ছোট্ট বিলকিস ছাড়া বাকিদের অবস্থা আশঙ্খাজনক। কি হবে সেটা বিধাতায় ভালো জানে। পরিবারের বড়দা একরামের এক ছেলে এক মেয়ে। তার দুটিই মেয়ে। তাকে সম্পতি দিলে মেয়েদের বিয়ের পর, পরের ছেলে সম্পতি ভোগ করবে। তাই জমিজমা দিতে চাইনি বাবা ইউসুফ। তার জন্যই এমন পরিনতি। এমনটিই জানা যায় স্থানীয়দের কাছ থেকে। আর সেই নিয়েই বিবাদ যা আট নয় বছর ধরে চলছিল। আত্মীয়স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীদের চাপে পরে ইকবালকে বাড়ি করতে তিন কাটা জমি ও চার লক্ষটাকা দিতে রাজী হন বাবা ইউসুফ। তবে কেন এমন ভাবে পুড়িয়ে মারার স্বরযন্ত্র ? তার উত্তর এখনও অধরা। কি কারনে এমন নৃশংসতা তার তদন্ত করতে এদিন খানো গ্রামের আসে ফরেন্সিক দলের প্রতিনিধি দল। তারা পোড়া জামাকাপড়, পোড়া চামড়া, মাটি সহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। বর্তমানে গোটা বাড়িটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

তবে প্রতিবেশিদের ও তুহিনার কাকার দাবী মেয়ে জন্মপর থেকে এমন অশান্তি। তাই সম্পত্তি দিতে চায়নি ইউসুফ। আর তাদের সকলকে এক সাথে শেষ করতেই এমন ফন্দি এটেছিল ইউসুফ। তারপর সম্পত্তি নিয়ে একটি মিমাংশা করেন আত্মীয়স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশিরা। তার দাবী ইউসুফের সম্পত্তি বিক্রি করে ভাল কোন জায়গায় চিকিৎসা করা হোক বাকিদের। তার পাশাপাশি জড়িতদের কঠর সাজার ব্যবস্থা করুক আদালত।