অফবিট ভ্রমণের অপর নাম বাংলার তাবাকোশী

একটু নির্জন নিরিবিলি আর চারিদিকে প্রকৃতির বিচিত্র হাতছানি অথচ একটু ফাঁকা ফাঁকা আর নিজের মত সময় কাটাতে চাইছেন? তাহলে এই বঙ্গেই তা আছে! নাম তার তাবাকোশী।
আরও আকর্ষণীয় জিনিসও আছে। সে বিষয়ে আসছি একের পর এক।

তাবাকোশী একটি ছোট গ্রাম। প্রকৃতি নিজের হাতের সাবলীল তুলির টানে এই সুন্দর পরিবেশটি যেন রচনা করেছেন। গ্রামটির পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে রাঙভাঙ নদী তার নিজস্ব ছন্দে আর শব্দে। এই নদী নেপালে তাবাকোশী বা তামাকোশী নামে পরিচিত আর সেই থেকেই এই গ্রামটির নামও হয়ে উঠেছে তাবাকোশী। পাহাড়ে গা বেয়ে উঠে গিয়েছে সুদূরপ্রসারী চা বাগান। বিচিত্র পাখির আনাগোনা আর তাদের কলতানে মুখরিত এই ছোট্ট অনবদ্য তাবাকোশী। নদীর পাশে আছে একটি সুন্দর পার্ক। সব মিলিয়ে সুন্দর মন জুড়ানো পরিবেশে বেশ কটা দিন এখানকার সতেজ বাতাস নিতে পারলে শরীর ও মন চাঙ্গা যে হবেই তা আর বলতে! আর সেইসাথে আছে রুচিপূর্ণ টাটকা স্বাস্থ্যপ্রদ খাওয়া-দাওয়া!ওহ্! আর কি চাই!

কিভাবে যাবেন :

হাওড়া থেকে ট্রেন ধরে বা বাসে নিউ জলপাইগুড়ি পৌছানোর ভাড়া গাড়ি বা আপনি যে হোমস্টে-তে থাকবেন বলে ভাবছেন তাদের সঙ্গে কথা বলে নিলে তারাও গাড়ির ব্যবস্থা করে দেবে। আনুমানিক ৬০ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে এই তাবাকোশী। মিরিকের কাছাকাছি (প্রায় ৮কিলোমিটার) বলে সেখানকার বাস পরিষেবা ব্যবহার করে মিরিক পর্যন্ত গিয়ে ভাড়া করা গাড়িতেও যেতে পারেন। সেই পথে যেতে যেতে উপভোগ করুন সুন্দর রাস্তা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য।

কোথায় থাকবেন :

বাণিজ্যিক প্রচার এখানে করা যায় না তবে আগ্রহীদের জন্য বলতে চাই এখানে বেশ কটি হোমস্টে রয়েছে সবকটিই ভালো পরিষেবা দিতে বদ্ধ পরিকর। তবে ভবিষ্যতে কি হবে জানি না। গুগুলে সন্ধান করলেই অনেক নাম এসে যাবে। তবে সোনাখরি হোমস্টে যেমন সাজানো যা দেখতে আপনার প্রায় একদিন লেগে যাবে আর তেমন সুন্দর পরিষেবা। জাপানি কায়দায় বানানো ঘরগুলি পুরাতন জিনিস দিয়ে বানানো। আপনি চাইলে নিজেও আলাদা করে রান্না করে নিতে পারেন। তার ব্যবস্থাও তারা করে দেবে। একাধিক সুন্দর সুন্দর রান্না তারা করে দেবে। বিভিন্ন ধরণের বাড়িতে বানানো ওয়াইন পাবেন। বাকীটা আর বলছি না সেখানে না গেলে বুঝতেই পারবেন না আরও কতকিছু আছে আর সবটা বলে দিলেও মজাটা না গেলে পাবেন না।

যাওয়ার আদর্শ সময় প্রাকৃতিক বিপর্যয় বাদ দিলে সব সময় যাওয়া যায়। তবে প্রচন্ড গরমের একটু বর্ষায় গেলে পাহারী নদীর জল আর সবুজটা আরও বুঝতে পারবেন। সেসময় পূর্ণিমা থাকলে উপভোগের মাত্রা আরও বাড়বে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।

ছবি : গুগুল