মুসলিম পরিবারকে বাঁচাতে চাঁদা আদায়ে নামলো হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।

পূর্ব বর্ধমান:- সুহানা বিলকিসের ও তুহিনার চিকিৎসা খরচ যোগাতে পথে নামলো হিন্দু ভাই বোন।

মৃত ইকবালের বাড়িতে নেই টাকাকড়ি। বাবার হাতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে ইকবাল। বৌ ও দুই মেয়েকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার দায়ে মুল অভিযুক্ত তার বাবা শেখ ইউসুফ। তার সাথে বড় দাদা সেখ একরাম জড়িত থাকার দায়ে সে এখন পুলিশি হেপাজতে। এখন অসহায় অবস্থায় দিন চলছে তার মা মাবিয়া বিবির। তার বৌ ও দুই মেয়ে বর্তমানে বর্ধমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। টাকার অভাবে ইকবালের স্ত্রী কন্যাদের জীবন বাচাঁনো দুস্কর হয়ে পরেছে। একদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কোলকাতায় স্থানান্তির করার পরামর্শ দিয়েছেন বর্ধমান হাসপাতালের চিকিৎসকরা। অন্যদিকে মায়ের হাতে নেই টাকাকড়ি।

আগুনে অগ্নিদগ্ধা ইকবালের মেয়ে সোহানা খাতুন বিলকিস খাতুন ও স্ত্রী তুহিনা বেগমের উন্নত চিকিৎসা করতে পাশে দাঁড়ালো গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন। এদিন দুপুরে গ্রামের দত্তপাড়া বারোয়ারি শিব মন্দিরে, গ্রামের মোনজ দত্ত, রসময় আঁকুড়ে, রিন্টু রায়, ছাড়াও মহিলা সুজাতা সাম, সোমা রায় মিলিত হন। তাদের সাথে যোগ দেন গ্রামের মুসলিম ভাই কাজী সমিরুদ্দিন, সেখ সানোয়ার, ইউনুশ মিঞা, ইমাম আলী ছাড়াও অসংখ্য মানুষ। তারপর হিন্দু মুসলিম মিলিত ভাবে সাহায্যের আবেদন নিয়ে গ্রামের হিন্দু মুসলিমের বাড়ি বাড়ি ঘুরতে থাকেন। এর পাশাপাশি গ্রামের রাস্তায় টোটো চালক, যাত্রী ও ভিন্ন গ্রামেরবাসীদের কাজে সাহায্যের আবেদন রাখেন। গ্রামবাসীরা সকলেই সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করে পাশে দাঁড়াচ্ছেন বলে জানা গেল। এই কাজে হিন্দু ভাইদের সাথে মুসলিম ভাইরা যোগদান করে সমাজে এক অন্য বার্তা ছড়িয়ে দিল বলে ধারনা সকলের।

আজিজুর রহমান ও আমজাদ আলীর রিপোর্ট পূর্ব বর্ধমান