গনিতে ১,বাকি সবে শূন্। মাধ্যমিকের রেজাল্ট পেয়ে হতবাক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।

মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে মাধ্যমিকের ফলাফল।এবার মাধ্যমিকে রাজ্যের মধ্যে প্রথম হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের ছাত্র সৌগত দাস।জেলা থেকে আরও দু’জন রয়েছেন রাজ্যের মেধা তালিকায়।বিগত বছরগুলির মত এবারও পাসের নিরিখে রাজ্যের মধ্যে প্রথম এই জেলা।অথচ জেলার কোলাঘাটে এক ছাত্রীর ফলাফল নিয়ে ইতিমধ্যে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে জেলায়।গত বছর কোলাঘাটের কোলা ইউনিয়ন গার্লস হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক দিয়েছিলেন কোলাঘাটের দেনান এলাকার তমালিকা বাগ।পড়াশোনায় মোটামুটি ভালই তমালিকা।২০১৭ র ডিসেম্বরে স্কুলের টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৮ সালে মাধ্যমিক দেন তমালিকা।সেবার তমালিকা অন্যান্য বিষয়ে ভালো নম্বর পেলেও ভৌত বিজ্ঞান,ইতিহাস,এবং ভূগোল বিষয়ে লিখিত নম্বর পান যথাক্রমে ০, ৪ এবং ৬।মেয়ের এই ধরনের ফলাফল কিছুটা অস্বভাবিকই মনে করেছিলেন তমালিকার বাবা পরিতোষ বাগ।পেশায় গৃহ শিক্ষক পরিতোষবাবু অন্যান্য শিক্ষকের পাশাপাশি এবার মাধ্যমিকের জন্য নিজে মেয়েকে ভালো করে প্রস্তুত করেন।এবার সব বিষয়ে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দেন তমালিকা।কিন্তু মঙ্গলবার মেয়ের ফলাফল দেখে চক্ষু চড়ককাঠ পরিতোষবাবুর।হতবাক তমালিকা নিজেও।গনিতে ১ ও অন্যান্য সমস্ত বিষয়ে ০ পেয়েছেন তমালিকা।তমালিকার এই ‘অস্বাভাবিক’ ফলাফল কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না কেউই।তমালিকার বাবা পরিতোষ বাগ বলেন,”মাধ্যমিকের আগে আমি নিজে মেয়ের একাধিক মক টেস্ট নিয়েছি।ও আশা করেছিল ৬০০ র ওপর নম্বর পাবে।এই ফলাফল একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।”এই ফলাফল আশা করেননি তমালিকাও।তাই এই মুহূর্তে কারও সাথে কথা বলছেন না তিনি।সর্বখন গুম হয়ে থাকছেন তমালিকা।মেয়ের এই পরিস্থিতি সামাল দিতে মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষক ও মনোবিদের দুয়ারে কড়া নাড়ছেন পরিতোষবাবু ও তাঁর স্ত্রী।কোলা ইউনিয়ন গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শৈবালিনী বর্মণ বলেন,”তমালিকা এ ধরনের নম্বর পাওয়ার ছাত্রী নয়।কোথাও একটা ভুল হচ্ছে।ওর পরিবারকে বলেছি রিভিউ করার জন্য।তাতেও কোন সুরাহা না হলে কোর্ট কেসের ভাবনা চিন্তা করছেন ওর পরিবার।”
২০১৯ র মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু থেকে বিতর্ক পিছু ছাড়েনি।সমস্ত পরীক্ষার দিনেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে।এবার অধিকাংশ বিষয়ে ছাত্রীর শূন্য পাওয়া নিয়ে পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওই ছাত্রীর পরিবার।

ছবি ও তথ্য প্রসেনজিৎ রায় খোকন মিশ্র